৩০০ মিটারের রাস্তা হয়ে গেল ১৮২! খড়িবাড়িতে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এর কাজ ঘিরে এবার দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল খড়িবাড়ির বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের কৌরিজোত এলাকা। ভিত্তিপ্রস্তর অনুযায়ী ৩০০ মিটার পাকা রাস্তা হওয়ার কথা থাকলেও, কাজ হয়েছে অর্ধেকের কিছু বেশি। আর সেই অনিয়ম ঢাকতেই রাতের অন্ধকারে প্রকল্পের বোর্ডে কাটাকাটি করে রাস্তার দৈর্ঘ্য বদলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কৌরিজোত এলাকায় ঈশ্বর ওঁরাওয়ের বাড়ি থেকে বুধনজোত মাঠ হয়ে পিন্টু সিংহের বাড়ি পর্যন্ত ৩০০ মিটার পাকা রাস্তা তৈরির শিলান্যাস হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে ঠিকাদারি সংস্থা তড়িঘড়ি কাজ শেষও করে দেয়। কিন্তু কাজ শেষ হতেই দেখা যায়, যে এলাকা পর্যন্ত রাস্তা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে পৌঁছানোর অনেক আগেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে বোর্ডে কারচুপি!
শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, রাস্তার প্রকল্পের বোর্ডে যেখানে আগে স্পষ্টাক্ষরে ৩০০ মিটার লেখা ছিল, সেখানে সেই লেখা মুছে হাত দিয়ে ১৮২ মিটার লিখে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ:
ভিত্তিপ্রস্তর অনুযায়ী নির্ধারিত জায়গার অনেকটা আগে কাজ শেষ করা হয়েছে।
রাস্তা না বানিয়েই পুরো প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে।
সরকারি নথিতে জালিয়াতি করতেই প্রকল্পের বোর্ডে কাটাকাটি করা হয়েছে।
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির দাবি, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদত ও ‘কাটমানি’ সংস্কৃতির কারণেই এই ধরনের জালিয়াতি সম্ভব হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে বলে তারা সরব হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বোর্ডের লেখাটিতে ভুল ছিল, তাই তা সংশোধন করা হয়েছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই।
পুরো বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা না পড়লেও, সংবাদমাধ্যমের মারফত খবর পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে এবং কাজে কোনো গাফিলতি থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন একটাই প্রশ্ন— স্রেফ ‘ভুল সংশোধন’ নাকি দুর্নীতির ঢাকনা দিতেই এই কারচুপি? প্রকৃত তদন্তই দিতে পারে সেই উত্তর।







